মুন্সীগঞ্জে মোল্লাকান্দিতে গুলিতে একজন নিহত

মোহাম্মদ সেলিম
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া গ্রামে খবির মীরের পুত্র প্রতিপক্ষের গুলিতে আরিফ মীর(৪২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। একই গ্রামের আক্তারের পুত্র গুলিবিদ্ধ ইমরান নিহত আরিফের চাচাতো ভাই বলে বলে জানা গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা তেমনটা ভালো নয় বলে জানা যাচ্ছে।

সোমবার ১০ নভেম্বর সকাল ৬টার দিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন অফিসের রাস্তার পশ্চিম দিকের আজিজের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আরিফের বুকে গুলির একাধিক চিহ্ন রয়েছে। আরিফকে যে গুলিগুলো করা হয়েছে সেগুলো পিস্তল রিভালবারের গুলি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

আজিজের বসতঘরের বেড়ার টিনে গুলির একাধিক চিহ্ন পুলিশ দেখতে পেয়েছে। আর এ বাড়িতে প্রবেশ মুখের টিনের বেড়াতে আটটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। এখান থেকে পুলিশ গুলির একাধিক গুলির খোসা উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে আরিফকে এখানেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আরিফ তিন কণ্যার জনক ছিলেন।

আরিফের স্ত্রী বর্তমানে অর্ন্তসত্বা বলে তার পরিবার থেকে দাবি করা হচ্ছে। হামলাকারীরা উত্তর দিকের গ্রাম থেকে এখানে আসে। আর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পূর্বেদিকে অবস্থান নেয় বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞা ধারণা করছেন। কারণ গুলির ছিদ্র তাই প্রমাণ দিচ্ছে এখানে। এ ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা এখান থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।

তবে আরিফের ওপর হামলার বিষয়টি অন্য কিছুর ইঙ্গিত বহন করছে। সঠিক তদন্ত হলে এর থলের বিড়াল বের হয়ে আসতে পারে। ঘটনাস্থল আর আরিফের বাড়ি অনেকটাই দূরত্বে রয়েছে। সেই হিসেবে এখানে আরিফ ও ইমরানের আসার কথা না। আর আরিফকে লক্ষ্য করে প্রতিপক্ষরা গুলি ছুড়েছে সেটিও কোনভাবে নিজেকে নিরাপত্তা দেয় না বলে অনেকেই মনে করছেন। আরিফের ওপর হামলা গুলিতে মৃত্যুও বিষয়টি এখানকার মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়।

তাতেই এখানকার এলাকাবাসী বিষয়টি প্রথমে জানতে পারে। মাইকে প্রচারের কারণে অপরাধীরা বা হত্যাকারী দ্রুত কেটে পড়তে সুযোগ পায়। আরিফের মরদেহ দেখতে হাসপাতালে আসেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকাটিতে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আরিফের মৃত্যুতে তার স্বজনদেরকে হাসপাতালে ও চরডুমুরিয়া গ্রামে আহাজারি করতে দেখা যায়।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা বিএনপির বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আতিক মল্লিক ও মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ওয়াহিদ মোল্লার অনুসারী শাহ কামাল গ্রুপের সাথে একই এলাকার ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সহ সভাপতি আওলাদ হোসেনের অনুসারী নিহত আরিফ গ্রুপের দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলমান সূত্রে এখানে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সোমবার সকালে নিহত আরিফ ও ইমরানরা দলবল নিয়ে আজিজের বাড়িরের সামনে অবস্থান নেয়। আর এর বিপরীত দিকের পূর্ব দিকে শাহ কামালের নেতৃত্বে সেই সময়ে সেখানে হামলা চালায় ও গুলিবর্ষণ করে। এতে আরিফ ও ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ ইমরানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রুহুল আমিন জানান, দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে স্থানীয়রা। এদের মধ্যে আরিফকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *